সিলেটে আল্লামা মামুনুল হক (হাফিযাহুল্লাহ) — “আসুন, আমরা সবাই মিলে কোরআনের বাংলাদেশ গড়ি”
সংবাদ প্রতিবেদন:
গতকাল সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল তাফসির মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা আল্লামা মামুনুল হক (হাফিযাহুল্লাহ)।
বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল— বায়াতে ইকামাতুল খিলাফা, বায়াতে আলা ইতাআতুল খিলাফা, ওসমানীয় খেলাফতের ধ্বংস ও রক্ষার আন্দোলন, এবং ইসলামী খেলাফতের ইতিহাস ও পতন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষ শাসন চাপিয়ে দেন। এরপর থেকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ভেঙে যায়। তবে আজ আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তন করছেন— আমেরিকা ও পশ্চিমা শক্তির পতনের সূচনা হয়েছে, এবং আফগানিস্তান থেকে ইসলামী খেলাফতের আলোকরশ্মি পুনরায় উদ্ভাসিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যদি আমরা কোরআনকে রাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আজ অন্যদের গোলামী করতে হতো না।”
বর্তমান আফগানিস্তানের শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তারা যেমন মসজিদে ও মাদ্রাসায় কোরআন অনুসরণ করছে, তেমনি রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থাতেও কোরআনের শাসন কায়েম করেছে।”
বাংলাদেশের বর্তমান বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “যার টাকা আছে সে অন্যায় করেও রেহাই পায়, আর গরিব মানুষ বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। এই অন্যায় পরিত্যাগ করে আমাদের আল্লাহর কোরআনের দিকে ফিরে যেতে হবে।”
তিনি মুসলমানদের ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যখন ফিলিস্তিন, ভারত বা বাংলাদেশে মুসলমানদের ইজ্জত ও জান-মালের ওপর আঘাত আসে, তখন আমাদের এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।”
ইসকনের কিছু সদস্যের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সেই নবীর উম্মত, যিনি নারীদের ইজ্জত রক্ষার জন্য জিহাদ করেছেন। আমাদের দেশেও মুসলিম মা-বোনদের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।”
দেশের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক স্বৈরাচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অনেক নেতা ক্ষমতায় এসে জনগণের উপর জুলুম চালিয়েছেন, দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাঠিয়েছেন। এবার আমাদের শপথ নিতে হবে— আগামী বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ, ইসলামের বাংলাদেশ।”
শেষে আল্লামা মামুনুল হক দোয়া করে বলেন,
“আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সত্যের পথে চলার তাওফিক দিন, কোরআনের আইনকে হৃদয়ে ধারণ করার শক্তি দিন, এবং আগামী দিনের বাংলাদেশকে কোরআনের বাংলাদেশ হিসেবে কবুল করুন।”
আল্লাহুম্মা আমিন।