গোবিন্দগঞ্জে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ক্যাম্পাস ও গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষ। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে, ঘটনার সময় স্থানীয় তিন সংবাদকর্মী—মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি মোশাহিদ আলী, ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক এ আর সায়েম এবং সদস্য লোকমান হোসেন—ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি
গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সাদ অভিযোগ করে বলেন, কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা আকস্মিক হামলা চালান। এ ঘটনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে ছাত্রদলের ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং তিনিও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, গোবিন্দগঞ্জ কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানের দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা করলে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে গোবিন্দগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ শফিকুল আলম মতি বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে কোনো মারামারি বা মিছিল-মিটিং হয়নি এবং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মহন্ত বলেন, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।