1. info@www.jawarbarta.com : জাউয়ার বার্তা :
  2. zubaerahmad85@gmail.com : জাউয়ার বার্তা : জাউয়ার বার্তা
কুতুবে বাঙ্গাল আল্লামা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া (রহ.): জীবন, শিক্ষা ও কর্মময় অবদান - জাউয়ার বার্তা
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পরিচ্ছন্ন ছাতক পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে গৃহস্থালির ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন” কুতুবে বাঙ্গাল আল্লামা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া (রহ.): জীবন, শিক্ষা ও কর্মময় অবদান সুনামগঞ্জ সফরের পথে জাউয়া বাজারে যাত্রাবিরতি, স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ছাতকে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে সংঘর্ষ, আহত ১৫ সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যাত্রী উঠানো নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০-১২, ভাঙচুর ১০ সিএনজি ছাতকের জাউয়া বাজারের জমজমাট কোরবানির হাট ‘রাজা বাবুর’ দাম হাঁকা ১৮ লাখ টাকা” জমজমাট জাউয়া বাজারের কোরবানির হাট ‘রাজা বাবুর’ দাম হাঁকা ১৮ লাখ টাকা” ছাতকবাজার থেকে পলাতক আসামী তাহিদুল গ্রেফতার কাজে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে — সিলেটের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বিশ্বম্ভরপুরের দুই সহোদর ভাইয়ের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ বৃদ্ধ ফরব আলী—উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি তাঁর হতে পারে বলে ধারণা

কুতুবে বাঙ্গাল আল্লামা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া (রহ.): জীবন, শিক্ষা ও কর্মময় অবদান

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

কুতুবে বাঙ্গাল আল্লামা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া (রহ.): জীবন, শিক্ষা ও কর্মময় অবদান

বার্তা ডেস্ক::আল্লামা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া (রহ.) ছিলেন বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষাবিদ, আধ্যাত্মিক সাধক ও রাজনীতিবিদ। তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দ্বীনি খেদমতের মাধ্যমে তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

জন্ম ও বংশ পরিচয়
তিনি ১৯১৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পূর্ব কাতিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শেখ মুহাম্মদ কনাই মিয়া ছিলেন এলাকার একজন সম্মানিত তালুকদার। পারিবারিক ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠার ফলে শৈশব থেকেই তাঁর মাঝে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ সৃষ্টি হয়।

শিক্ষা জীবন
নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি নবীগঞ্জের দিঘলবাগ নিউস্কিম মাদরাসা এবং গোলাপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাঘা মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ভারতের বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দে গমন করেন।

দেওবন্দে তিনি শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সাত বছর হাদিস, তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন এবং সফলতার সঙ্গে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।

আধ্যাত্মিক সাধনা ও খেলাফত
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি তাসাউফ ও আধ্যাত্মিক সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক উৎকর্ষে সন্তুষ্ট হয়ে হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন। আধ্যাত্মিক জগতে তাঁর অসামান্য মর্যাদা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘কুতুবে বাঙ্গাল’ উপাধিতে ভূষিত হন।

দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান
দেশে ফিরে তিনি ১৯৫১ সালে (মতান্তরে ১৯৪৯ বা ১৯৫৯ সালে) নিজ গ্রামে “জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম আইলতলী ও কাতিয়া মাদরাসা” প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

তিনি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় অর্ধশতাধিক মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা এবং পৃষ্ঠপোষকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শিক্ষা বোর্ডে নেতৃত্ব
কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ‘আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ’-এর অন্যতম প্রধান অভিভাবক ও উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

রাজনৈতিক জীবন
আল্লামা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া (রহ.) ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ নেতা। জমিয়তের মনোনয়নে তিনি অবিভক্ত পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের সদস্য (MNA) নির্বাচিত হন। একজন আলেম হিসেবে তাঁর এই বিজয় সে সময়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছিল।

ইন্তেকাল ও স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা
২০১০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের রাতে (৩০ রমজান) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সিলেটে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালে দেশ-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো মুসল্লি ও অসংখ্য আলেম-ওলামা অংশগ্রহণ করেন। এটি সিলেট অঞ্চলের স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত। পরে তাঁকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাতিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।

উপসংহার
আল্লামা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া (রহ.) ছিলেন দ্বীন, শিক্ষা, আধ্যাত্মিকতা ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, রেখে যাওয়া শিক্ষাধারা এবং অসংখ্য ছাত্র-শিষ্যের মাধ্যমে তাঁর আদর্শ আজও সমাজে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জাউয়া'র বার্তা-২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট